সাহিত্যের ডিফারেন্সিয়েশন

একজন বড় সাহিত্যিক হতে হলে যেমন তাকে হতে হয় একজন সাহিত্যের বড় সমালোচক ও বিচারক। জাজমেন্ট এর ক্ষমতা না থাকলে বড় সাহিত্যিক হওয়া খুব জটিল কাজ। একজন সাহিত্যিকের গুণমান কিভাবে প্রকাশ পায় তা জানা যায় এক্সপ্রেসিভ থিয়োরি থেকে। এ নিয়ে অনেক ভালো ভালো আলোচনা লিখেছেন লিও টলস্টয় ও সেলির মত মানুষগণ। লিও টলস্টয়ের মতে আর্ট বা সাহিত্যকে বিচার করা যায় পাঠক বা দর্শকদের চিন্তা ভাবনায়, লেখকের চিন্তা ভাবনা কতটা সংক্রামক হয়েছে তা থেকে। তিনি বলেছেন যে সাহিত্যের দুটি গুন থাকবে তা হল সংক্রামক এবং চিন্তা ভাবনার গুণ বা কোয়ালিটি অফ ফিলিংস। প্রশ্ন হল এই সংক্রমনতা আনবেন কী করে নিজের লেখায় এ নিয়ে তিনি বলেছেন এই সংক্রমনতাকে নির্ধারণ করে আপনার লেখার স্বতন্ত্রতা, স্পষ্টতা এবং আন্তরিকতা। আপনার লেখার সংক্রমনতা যত বেশি লেখার মানও তত উন্নত। আপনার চিন্তা ভাবনার গুণে থাকতে হবে প্রধানত দুটি বৈশিস্ট্য় তা হল ধর্মীয় বা স্পিরিচুয়াল চিন্তাভাবনা এবং সার্বজনীন চিন্তাভাবনা কারণ স্পিরিচুয়াল চিন্তা প্রকাশ করে একজনের ভালোবাসা ভগবানের প্রতি বা প্রতিবেশীদের প্রতি। এবং সার্বজনীন চিন্তা হল সবার প্রতি। লেখকের কল্পনাশক্তি, প্রতিভা ও আবেগপ্রবণতা। এই এক্সপ্রেসিভ থিয়োরি-ই নির্ধারণ করে আপনার লেখার রোমান্টিক টেম্পারমেন্ট। সেলির মতে মানুষের জীবনের অন্তরের সত্যতা হল অনুভূতি এবং ভাবাবেগ। কল্পনাশক্তিকে রাঙিয়েই একমাত্র অনুভূতি ও ভাবাবেগ আনা সম্ভব। এমনকি এই কল্পনাশক্তির সাথেই যোগাযোগ রয়েছে নৈতিকতার। কল্পনাশক্তিই একমাত্র আনতে পারে সত্যতা ও সুন্দরতা। সেলির মতানুসারে কল্পনাশক্তিই হল সর্বোত্তম নৈতিকতার অঙ্গ। তাই আপনার লেখায় এই সব বৈশিষ্ট্য আনার চেষ্ট করুন। বর্তমানে দেখেছি সবাই বই প্রকাশের জন্যই বেশি দৌড়ায় কিন্তু সাহিত্যকে উন্নয়নের আলোচনায় সবাই দেখায় অনীহা যে কারণে আজ সাহিত্যের বেশি ডিফারেন্সিয়েশন হচ্ছে না আর। যা একান্ত প্রয়োজন।

-অমিত দে

অগ্নিগর্ভ একাল

অগ্নিগর্ভ কয়েকটা প্রকৃতির সবুজ ঘামে
লালশিক্ত বর্ণমাখা বিস্তৃতির নীল আকাশে,
দুঃস্বপ্ন চন্দ্রভেজা চোখের অস্পষ্ট রাত
আমাদের ড্রাগন রূপে কুরে কুরে খায়।
মায়াময় পৃথ্বীর অন্ধকার অসহ্য অসাড়
ভয়ার্ত জাড্যে অসুস্থ অস্নাতক নিশাচর প্রাণ।
জাতিভ্রষ্ট কাল কেউটের জীর্ণ চিৎকার
প্রাণবন্ত বিষ দাঁত দোমড়ায় সভ্যতার।
জ্বালামুখ বর্জ্য বিদ্যুৎগর্ভ মেঘের মুখপাণে
মানবজাতির হিংস্র মিসাইল উড়ে চলে।
উর্দ্ধশ্বাসে রওনা দেয় এক ত্রৈকালিক উৎকণ্ঠা
ঘ্রাণের মতো তাড়া দেয় হানাবাড়ির বিভীষিকা।
চেনা মুখোশের আড়াল পূর্ণ হতবাক চিলেকোঠা
অচেনা বিকেলের উল্লাস শূন্য দানবীয় জেলখানা,
মাঝে মাঝে উদ্বিগ্ন অস্বস্তিকে ডেকে
হাড় ভাঙ্গা কঙ্কাল কুয়াশা হয়ে জাপটে ধরে।
অমাবস্যার নিশীথের ছায়াগুলো রক্ত চুষে খায়,
হৃদপিণ্ডের নাড়ির চাপে দমবন্ধ হয় এ সমাজটার।
….সুমিত দে….